ভারতের সঙ্গে বৈঠক শেষেই সীমান্তে সেনা পাঠালো চীন

প্রকাশ: ২০২০-০৬-০৮ ০৫:১৩:৪৪ 211 Views

দুপক্ষের মুখে ‘শান্তির কথা’ শোনা গেলেও সীমান্ত বিরোধ নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যকার বিরোধ সহসাই সমাধান হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। দু’দেশই নিজেদের অবস্থানে অনড়। এরইমধ্যে দুইদেশের মধ্যে হয়ে গেল বৈঠক।

শনিবার সামরিক পর্যায়ে বৈঠকের পর দিল্লি রোববার (৭ জুন) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুই দেশই এ সঙ্কটের ‘শান্তিপূর্ণ সমাধান’ চাইছে।

এদিকে বৈঠক শেষের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্য চীনের হুবেই প্রদেশে থেকে বিমানবাহিনীর সদস্যরা লাদাখ সীমান্তে এসে অবস্থান নিয়েছেন। বৈঠক নিয়ে চীনের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে কোনো বক্তব্য না এলেও দেশটির রাষ্ট্রীয় মুখপত্র গ্লোবাল টাইমসে রোববার সেনা মুভমেন্টের এ খবর দিয়েছে।

বিবিসি বাংলা জানায়, ভারতের সামরিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, লাদাখ সীমান্তের এ বিরোধ যে খুব তাড়াতাড়ি মিটবে না, সেটা বৈঠকে দুপক্ষের অনড় অবস্থান থেকেই অনেকটা পরিষ্কার হয়ে গেছে।

মাসখানেক আগে লাদাখ সীমান্তের গালওয়ান ভ্যালি ও প্যাংগং লেক এলাকায় দু’দেশের সেনা মোতায়েনকে ঘিরে ভারত-চীন সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

এ উত্তেজনার নিরসনে ভারত সামরিকপর্যায়ে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিল। চীন তাতে রাজি হওয়ার পর শনিবার পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চীনের অভ্যন্তরে মালডোতে ‘বর্ডার পার্সোনেল মিটিং পয়েন্টে’ বৈঠকে বসেন দু’দেশের সেনা কর্মকর্তারা।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠক অত্যন্ত ‘সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে’ হয়েছে এবং দুপক্ষই ‘শান্তিপূর্ণ সমাধান’ চাইছে। তবে সীমান্তের বিতর্কিত এলাকা থেকে সেনা সরানোর ব্যাপারে বিবৃতিতে কিছুই বলা হয়নি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গবেষক ও লেখক শ্রীরাম চাউলিয়া বলেন, এ বৈঠকে খুব বেশি কিছু হওয়ারও ছিল না। কারণ, চীনের মতো দেশে সব কিছু সর্বোচ্চ নেতার ইশারাতেই চলে, তার সিদ্ধান্তের দিকেই সবাই তাকিয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, ‘শি জিনপিং শুধু প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্টই নন, তিনি কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতা এবং সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনেরও প্রধান-যাদের হাতে সেনাবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। কাজেই আমার মতে, এই সংকটের সমাধান করতে গেলে মোদি ও শি-কেও নিজেদের মধ্যে সরাসরি কথা বলতে হবে।

তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কোনো দেশই চায় না আমার বিশ্বাস। অতীতেও সর্বোচ্চ নেতাদের মধ্যে হটলাইনের মাধ্যমেই আমরা উত্তেজনা প্রশমিত করতে পেরেছি।

দিল্লিতে রোববার ভারতের সামরিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, গতকাল মালডো’র বৈঠকে দুপক্ষই মোটামুটি নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিল। লাদাখ সীমান্ত এলাকায় ভারত যেসব রাস্তা ও অবকাঠামো নির্মাণ করছে, সেগুলোর কাজ বন্ধ রাখতে তারা অস্বীকার করেছে। একইভাবে গালওয়ান ভ্যালি, ডেনচক বা প্যাংগং ঝিলে চীনা সৈন্যরা যেভাবে অগ্রবর্তী অবস্থান নিয়েছে সেখান থেকেও তারা পিছু হঠতে রাজি হয়নি।

ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল শঙ্কর রায় চৌধুরী বলেন, ভারতের জন্য এটা ইতিবাচক কারণ সেখানে আমাদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ আছে।

তিনি বলেন, তাছাড়া ওখানে হিমালয়ের যেটা প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট ও পাকিস্তানের সঙ্গেও একটা বিরোধের জায়গা- সেই দৌলত বেগ ওল্ডি-তেও আমাদের অ্যাকসেস বজায় আছে। যা বুঝতে পারছি, ভারতের অবস্থান হল ‘যেটাকে আমরা নিজেদের ভূখণ্ড বলে মনে করি তা কোনো মতেই ছাড়ব না এবং যেখানে আছি সেখানেই থাকব’।

ভারতের সাবেক এই সেনাপ্রধান বলেন, বাষট্টির যুদ্ধে বা তারপরেও চীনকে নিয়ে যে হীনমন্যতায় আমরা ভুগতাম, তার থেকে এটা বিরাট এক উত্তরণ কোনো সন্দেহ নেই।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

ট্যাগ :



চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক : মোঃ আব্দুল আজিজ
ডিএমডি : মোঃ আরমান তারেক

বার্তা কক্ষ :

ঢাকা অফিস : ৬ষ্ঠ তলা,আইভরীকৃষ্ণচূড়া,৩/১ ই পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
চট্টগ্রাম অফিস : সায়মা আবুল স্কয়ার,বড়পুল,হালিশহর,চট্টগ্রাম।
ফোন : ০১৮১৭-৭৪৩৩৮৭
মেইল : channelkornofuli.org@gmail.com