সাঈদীর পুত্র ভক্ত মোস্তাফিজকে এমপি চান না বাঁশখালীবাসী!

প্রকাশ: ২০১৮-১১-১৯ ০৯:৫০:১০ 97 Views

নিজস্ব প্রতিবেদক :: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের মদিনাতুল উলুম মোহাম্মদীয়া মাদ্রাসার বার্ষিক সভায় যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীরপুত্র শামীম বিন সাঈদীর সাথে প্রধান অতিথি হয়েছিলেন সাংসদ মোস্তাফিজ। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে এ ঘটনা ঘটে। জামায়াত ভক্ত মোস্তাফিজকে এমপি হিসেবে চান না বাঁশখালীর আওয়ামী পরিবার।

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে প্রার্থী হয়েই এক লাফে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়ে যান এই সংসদ সদস্য। বাঁশখালী থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমূল পরিবর্তন হয় তার জীবনধারাতেও। একসময়ের শান্ত স্বভাবের মোস্তাফিজুর হয়ে যান রগচটা। কথায় কথায় হুমকি দেন গুম-খুনের। সরকারি কর্মকর্তা থেকে সাংবাদিক, দলীয় নেতা-কর্মী, সাধারণ মানুষ, এমন অনেকেই শিকার হয়েছেন তার আক্রোশের। জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত, দলীয় নেতা-কর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানি এবং অনিয়ম-দুর্নীতির অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে। তার এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রত খোদ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও।

বাঁশখালী আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীও অভিযোগ করেন, বাঁশখালীতে জামায়াত-শিবিরকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে শহীদ মিনারে জামায়াত নেতাদের নিয়ে ফুল দেওয়া, জামায়াত-শিবির নেতাদের পরিচালিত হজ কাফেলার মাধ্যমে হজে গমন, জামায়াত নেতাকে নিয়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনসহ ছাত্রশিবিরকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে সমালোচিত এই সংসদ সদস্য। ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারি যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলের সঙ্গে দক্ষিণ পুঁইছড়ি মদিনাতুল উলুম মোহাম্মদীয়া মাদ্রাসার বার্ষিক সভায় অতিথি হয়েছিলেন এমপি। জামায়াতের সাবেক আমির শফিউল্লাহর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভার জন্য সংসদ সদস্য ও সাঈদীপুত্রের নামে পোস্টারও সাঁটানো হয়। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যেই সমালোচনা হলে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী উপস্থিত থাকবেন বলে মাইকিং ও পোস্টারে প্রচার করেছিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই সভায় সভাপতি হিসেবে দেখানো হয়েছিল সাবেক উপজেলা জামায়াতের আমির শাহজাদা মাস্টার শফি উল্লাহকে। তাছাড়া ওই সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল যুদ্ধাপরাধের দায়ে দ-প্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীপুত্র শামীম বিন সাঈদী। অতিথি ও আলোচকবৃন্দের মধ্যে ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির জহিরুল ইসলাম, মীম ছিদ্দিক ফারুকী ও মীর মোহাম্মদ আদম। তখন রাজাকারপুত্রের আগমনে বাঁশখালী উপজেলার সুশীল সমাজ ও সচেতন মহলের মধ্যে চলছে আলোচনার ঝড় উঠে। ফলে তখন সাঈদীপুত্র বাঁশখালীতে না আসতলেও জামায়াতে সাথে আঁতাত করে চলছে এ সাংসদ।

সে সময়ে মাদ্রাসার সুপার ও উপজেলা জামায়াতের সহকারী আমির আরিফ উল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেছিরেন, মাদ্রাসার বার্ষিক সভায় স্থানীয় এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। তাছাড়া প্রধান আলোচক হিসেবে রয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বক্তা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সুযোগ্য পুত্র শামীন বিন সাঈদীসহ অনেক আলোচক।

এ সাংসদের আমলে মানবতাবিরোধী অপরাধীর রায় ঘোষণার পর এই উপজেলার সরকারী ভবন, দোকানপাট ও পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছিল জামায়াত-শিবির।

ট্যাগ :



চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক : মোঃ আব্দুল আজিজ
ডিএমডি : মোঃ আরমান তারেক

বার্তা কক্ষ :

ঢাকা অফিস : ৩৭৩, দিলু রোড, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
চট্টগ্রাম অফিস : সায়মা আবুল স্কয়ার,বড়পুল,হালিশহর,চট্টগ্রাম।
ফোন : ০১৩০৬৭৩৪২৪০
মেইল : channelkornofuli.org@gmail.com