দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে কঠোর ব্যবস্থা

প্রকাশ: ২০২০-০২-২৫ ১০:২৫:৩১ 710 Views

আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগকালে স্লোগান না দিয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে সালাম দিয়ে প্রচারণা চালানোর জন্য দলের নেতাকর্মীদের আহবান জানিয়েছেন চসিক নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়ক দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তিনি জানান, কোন ধরনের স্লোাগান দেবেন না আপানারা। সুন্দর করে সালাম দেবেন। সালাম দিয়ে নৌকার পক্ষে ভোট চাইবেন। একই সাথে দলের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থন দেওয়া কাউন্সিলর প্রার্থীদের মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
গতকাল সোমবার বিকেলে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। চসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ এ বর্ধিত সভার আয়োজন করে। সভায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের সমর্থন পাওয়া বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে বেশ কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এসময় তারা যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন না দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সুতরাং যাদের প্রার্থী করা হয়েছে, তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রার্থী। দলের স্বার্থে তাদের মেনে নিতে হবে এবং সবাইকে তাদের পক্ষে কাজ করতে হবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা অবস্থান নেবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদ্রোহী প্রার্থী ও ক্ষুব্ধ নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পদ-পদবি সাময়িক। এক সময় আমি মন্ত্রী ছিলাম, এখন আমার মন্ত্রীত্ব নেই। এক সময় আমাকেও দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। আমার এলাকার আর একজনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। আমি আমার গাড়ি-অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছি। আমাদের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ৫ বছর মেয়র ছিলেন। তিনি আবার মনোনয়ন চেয়েছেন, কিন্তু মনোনয়ন পাননি। কিন্তু তিনি মনোনয়ন পাওয়া রেজাউল করিম চৌধুরীর পক্ষে কাজ করছেন। এটাই তো নীতি। আওয়ামী লীগ এ নীতির উপর দাঁড়িয়ে আছে। সুজন (খোরশেদ আলম সুজন), বাচ্চু (আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু), ছালামও (আবদুচ ছালাম) মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তারাও নৌকার পক্ষে কাজ করছেন।
সুতরাং আমরা যদি পারি তাহলে তোমরা কেন (দলের নেতাকর্মী) পারবে না। আজকে তোমরা যারা মনোনয়ন পাওনি-আগামীতে তোমরা পাবে। তোমরা তো ফোঁড় খাওয়া মানুষ। তোমরা পারবে। আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হয়ে থাকাও তো অনেক গৌরবের।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, মাহতাব-নাছিরের নেতৃত্বে নগর আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। আমাদের রয়েছে বিশাল কর্মীবাহিনী। শেখ হাসিনার সরকার চট্টগ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছে। জনগণের কাছে ভোট চাইতে গেলে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি কম হবে কেন? ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে উৎসাহিত করতে হবে। ইভিএম পদ্ধতিতে যার ভোট তিনিই দেবেন। এখানে কারচুপির কোনো সুযোগ নেই। আমরা এক সময় ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটকেন্দ্রে আসতে অনুরোধ করেছি। আপনারাও তা করবেন। নৌকা মার্কা দেখে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষেও কাজ করতে হবে।
সাতদিনের মধ্যে কেন্দ্র কমিটি ঃ
আগামী সাতদিনের মধ্যে কেন্দ্র কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। কমিটিতে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্নদের রাখা হবে। খসড়া কমিটি করে আমরা মোশাররফ ভাইকে (ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন) দেখাবো। তিনি প্রয়োজনে নেত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন।
কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে তৃণমূলের নেতাদের ক্ষোভ প্রসঙ্গে নগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে যদি করো কোনো আপত্তি থাকে, সেটা লিখিত আকারে দেন, আমরা দেখব। কিন্তু যাদের প্রার্থী করা হয়েছে, তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রার্থী। প্রধানমন্ত্রী যাকেই মনোনয়ন দিয়েছেন তাদের পক্ষেই আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। নিজের প্রসঙ্গ টেনে মেয়র নাছির বলেন, আমাকে প্রত্যক্ষ করেন আপনারা। আমিওতো মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তাকে জিতিয়ে আনার জন্য আমি সব কিছুই করছি। এটা করতে হবে। কারণ আমরা দল করি। দল করলে দলের সিদ্ধান্ত মানতে হবে। বিদ্রোহী কাউকে সমর্থন দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা দলীয় প্রার্থীকে জিতিয়ে আনার জন্য সব করবো। এর বাইরে কোন কথা নেই।
সভায় আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, মেয়র পদে অনেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। আমার চেয়েও যোগ্য অনেকে ছিলেন। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। আমাকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী করেছেন। আপনারা ব্যক্তি রেজাউল নয়, শেখ হাসিনার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করুন। আপনারা সবাই দীর্ঘদিনের পরিক্ষিত সৈনিক। আমিও দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছি। আমাদের মধ্যে কোন বিভেদ নেই। যখনই যাকে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছি। এবারও তাই করতে হবে।
মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, জহিরুল আলম দোভাষ, কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালামসহ মহানগর আওয়ামী লীগ, বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটের প্রতিনিধিরা।

ট্যাগ :



চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক : মোঃ আব্দুল আজিজ
ডিএমডি : মোঃ আরমান তারেক

বার্তা কক্ষ :

ঢাকা অফিস : ৬ষ্ঠ তলা,আইভরীকৃষ্ণচূড়া,৩/১ ই পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
চট্টগ্রাম অফিস : সায়মা আবুল স্কয়ার,বড়পুল,হালিশহর,চট্টগ্রাম।
ফোন : ০১৮১৭-৭৪৩৩৮৭
মেইল : channelkornofuli.org@gmail.com