শাহাদাতের ওপরই আস্থা রাখল বিএনপি

প্রকাশ: ২০২০-০২-২৫ ১০:২১:০২ 62 Views

দলের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের উপর আস্থা রাখল বিএনপি। আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে তাকেই মেয়র পদে দলের প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটির ‘পার্লামেন্টারি বোর্ড’।
এবার মেয়র পদে ডা. শাহাদাতসহ দলের সমর্থন চেয়েছিলেন ছয়জন। বাকিরা হচ্ছেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এরশাদ উল্লাহ, সহ-সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খান, সহ-সভাপতি সৈয়দ আজম উদ্দীন এবং মহিলা বিষয়ক সহ-সম্পাদক ডা. লুসি খান। গতরাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে গঠিত মনোনয়ন বোর্ড। এসময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে লন্ডন থেকে যোগ দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে কথা বলেন। সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট পর ডা. শাহাদাতের নাম ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এদিকে মনোনয়ন না পেলেও দলের সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন বাকি মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল চসিকের সর্বশেষ নির্বাচন। সেবার বিএনপির সমর্থন পান সেসময়ে দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ মনজুর আলম। তিনি পেয়েছিলেন ২ লক্ষ ৭০ হাজার ৮৪৫ ভোট। অবশ্য দুপুরের আগেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি। এবার তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থন চেয়েও পাননি। ২০১৫ সালে নির্বাচিত মেয়র আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দীন পেয়েছিলেন ৪ লক্ষ ২৪ হাজার ৬০০ ভোট।
এদিকে দলের সমর্থন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমাকে প্রার্থী করায় নেত্রী, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, স্ট্যান্ডিং কমিটি এবং দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো। চট্টগ্রামকে সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য এবং সত্যিকার অর্থে নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ার জন্য দল থেকে আমার উপর যে সমর্থন দেয়া হয়েছে তার জন্য চট্টগ্রামবাসীকেও পাশে পাব।’
এদিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান ও সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এস এম সাইফুল আলমের কাছেও তদের মতামত জানতে চান। দুজনই ডা. শাহাদাত হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। বিষয়টি স্বীকার করে এস এম সাইফুল আলম দৈনিক আজাদীকে বলেন, মনোনয়ন বোর্ডের সভায় আমি এবং সুফিয়ান ভাইকেও ডাকা হয়েছিল এবং আমাদের মতামত জানতে চাওয়া হয়। তখন আমরা দুজনই ডা. শাহাদাত হোসেনের নাম প্রস্তাব করেছি।
এদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশী নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর দৈনিক আজাদীকে বলেন, দল যাকেই মনোনয়ন দিয়েছে তার পক্ষে কাজ করবো। বক্কর বলেন, আমাকে মনোনয়ন না দিলে ডা. শাহাদাতকে যেন দেয়া হয় তার প্রস্তাব করেছিলাম।
আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী নগর বিএনপির মহিলা বিষয়ক সহ-সম্পাদক ডা. লুসি খান বলেন, আমি না পেলেও আমার ভাই তো পেয়েছে। আমরা তো একই দল করি। আগেই বলেছিলাম, বিএনপি তো একটি পরিবার এবং পরিবারের যেই সদস্যই মনোনয়ন পাক তার জন্য আমরা কাজ করবো। শাহাদাত ভাইয়ের জন্যও কাজ করবো। মনোনয়ন না পেলেও দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন নগর বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খান।
উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালী আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন ডা. শাহাদাত হোসেন। নির্বাচন চলাকালে তিনি নাশকতার মামলায় আটক হয়ে কারাগারে ছিলেন। সেবার তিনি ভোট পেয়েছিলেন ১৭৬৪২।
উল্লেখ্য, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ শাখার প্রথম প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন ডা. শাহাদাত হোসেন । ১৯৮৭ সালে ছাত্রদলের হাত ধরে রাজনীতি শুরু করেন এবং ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ছাত্র রাজনীতিতে ছিলেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন। ১৯৯১ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করার পরে জাতীয়বাদী চিকিৎসক সংগঠন (ড্যাব) এর চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। একই বছর ১৭ নং পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য হিসেবে বিএনপির রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৯৪ সালে মীর মো. নাছির উদ্দিন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক হলে উক্ত আহবায়ক কমিটির ১১তম যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে মহানগর বিএনপির রাজনীতি শুরু করেন। ২০০১ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বাকলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০৭ সালে ১/১১ পরবর্তী সময়ে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার টেলিফোন নির্দেশে মহানগর বিএনপির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন বলেও জানান তিনি। এছাড়া ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক, ২০০৯ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ৬ আগস্ট পর্যন্ত মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পদক এবং এরপর থেকে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। মাঝখানে ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০১৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
নির্বাচন কশিনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা দেয়া, ১ মার্চ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ৮ মার্চ প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। মোট ভোাটার সংখ্যা ১৯ লক্ষ ১৭ হাজার ৯৭৮ জন। গত রোববার রাতে ৪১টি ওয়ার্ড ও ১৪টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে দলের প্রার্থী ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রের নির্দেশে গঠিত দলের মনোননয়নন বোর্ড।

ট্যাগ :



চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক : মোঃ আব্দুল আজিজ
ডিএমডি : মোঃ আরমান তারেক

বার্তা কক্ষ :

ঢাকা অফিস : ৬ষ্ঠ তলা,আইভরীকৃষ্ণচূড়া,৩/১ ই পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
চট্টগ্রাম অফিস : সায়মা আবুল স্কয়ার,বড়পুল,হালিশহর,চট্টগ্রাম।
ফোন : ০১৮১৭-৭৪৩৩৮৭
মেইল : channelkornofuli.org@gmail.com