সীতাকুণ্ডে কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না সড়ক দূর্ঘটনা-দায়ী কে?

প্রকাশ: ২০২০-০২-১৮ ০৬:২৬:৫৬ 176 Views

কর্ণফুলী ডেস্কঃ

সীতাকুণ্ডে কিছুতেই থামনো যাচ্ছে না সড়ক দুর্ঘটনা।ঢাকা -চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৩৭ কিলোমিটারের এই অংশে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। একেরপর এক দুর্ঘটনায় লম্বা হচ্ছে লাশের সারি।ঝুঁকিপূর্ন হয়ে ওঠেছে সীতাকুণ্ড, রুপ নিয়েছে মৃত্যুকূপে।

নানা অসঙ্গতি, বেপোরোয়া গতি ও ওভার টেকিংয়ের কারনে দুর্ঘটনা বেড়ে চললেও দুর্ঘটনা রোধে নেওয়া হচ্ছে না স্থায়ী কোন ব্যবস্থা। ফলে সড়কে মৃত্যুর সংখ্যা দিনদিন বেড়ে চলছে। দূর্ঘটনার এমন দাপটে আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছে সাধারন মানুষ।

ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হলেও সড়ক দুর্ঘটনা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না জনগন। সড়কে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হওয়ায় হাজার কোটি টাকার সড়ক হয়ে উঠেছে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর হাতিয়ার। গেল ৩ মাসে সীতাকুণ্ডের সড়কে ব্যাংকার, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, শিশু ও মহিলাসহ ঝরেছে অসংখ্য প্রাণ।

তথ্য সূত্রে জানা যায় , গত ৩ মাস আগে সীতাকুণ্ড ফৌজদারহাট এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাকের যুগ্ম সচিব ও তার ২ মেয়ে প্রাণ হারান। এরপর সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায় পেট্টল পাম্প থেকে তেল আনতে যাওয়ার পথে বাসের নিচে পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় এক মোটর সাইকেল আরোহীর।

এ ঘটনার কয়েকদিন পরই বাঁশবাড়িয়া এলাকায় একটি দ্রুতগামী পাথর বাহী ট্রাক দন্ডায়মান একটি পিকআপকে বেশ জোরে ধাক্কা দেয়। এতে এক চালকসহ মৃত্যু হয় ৩ জনের। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই সোনাইছড়ি এলাকায় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় এক মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হয়। পরদিন সলিমপুর ফকিরহাট ওভারব্রীজের উপর থেকে ছিটকে পড়ে ট্রাক ও লরি।

এ ঘটনায় ১০ জনের বেশি আহত ও সোয়া লক্ষ টাকার মালামালের ক্ষতি হয়। এছাড়াও সীতাকুণ্ড বাড়বকুণ্ডে ড্রাইভারের ভুল চালনার কারণে নিজ গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যান ঐ ট্রাকের হেলপার। এভাবে প্রতিনিয়ত সীতাকুণ্ডে ঘটে চলছে ছোট বড় অসংখ্য দূর্ঘটনা।এসব ঘটনায় প্রাণহানীসহ পঙ্গুত্ব বরণ করছে অনেকেই। নিঃস্ব ও স্তব্ধ হয়ে পড়ছে বহু পরিবার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কে দুর্ঘটনা বাড়তে থাকায় রাস্তায় বের হলেই আতংকগ্রস্ত থাকে পরিবার। অথচ সড়কে প্রতিদিন প্রাণনাশ হলেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনে ভূমিকা নেই সংশ্লিষ্টদের।প্রশাসন কেবল মরদেহ উদ্ধার, ময়নাতদন্ত, মামলা,লাশ হস্তান্তরেই সীমাবদ্ধ রেখেছে নিজেদের গুরুদায়িত্ব।

সীতাকুণ্ডে ক্রমান্বয়ে ঘটে যাওয়া এই দূর্ঘটনায় দায়ী কে সে প্রশ্ন এখন সকলেরই।এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনলাইন প্রতিবেদকের তদন্তে ওঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য।

জনগণ প্রশাসনকে দোষলেও তদন্ত বলছে দূর্ঘটনার জন্য দায়ী লাইসেন্স বিহীন চালক, ফিটনেস বিহীন গাড়ি ও অস্বাভাবিক প্রতিযোগীতা এবং জনগণের অসচেতনতা।

অধিকাংশ ঘটনার সত্যতা যাচাই করলে দেখা যায় সাধারণ মানুষই সড়কে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেন।গাড়ির আগে দৌঁড়ে পার হতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও কম নয়।ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করা, পারপারে অসতর্কতা,তাড়াহুড়ো চলাফেরাসহ নানা অনিয়ম সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

তবে এক্ষেত্রে চালকদের বিশৃঙ্খলাও হইচই করছে।ঢাকা-চট্রগ্রামগামী অধিকাংশ বাসগুলো বেপরোয়া গতিতে চলে ।

পিকআপ,সিএনজি,অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল সময় বাঁচাতে গিয়ে প্রায় সময় উল্টো পথে আসে।তাছাড়াও সড়কের পাশে ইট- বালু,গাছ রেখে ফুটপাত দখল ও বেআইনি পার্কিং দূর্ঘটনার কারণ।

এ বিষয়ে বারআউলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল আউয়ালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন বেপরোয়া গতি, উল্টো পথে চলা এবং ওভার টেকিংয়ের কারনে দুর্ঘটনা বাড়ছে সড়কে।

রাতে ঘটিত অধিকাংশ দূর্ঘটনার জন্য দায়ী ঘুমের ঘোরে গাড়ি চালনা। আর সড়কে ফিটনেস বিহীন গাড়ি বন্ধ করা না গেলে সড়কে দুর্ঘটনা রোধ সম্ভব না বলে জানান তিনি।

জনগণকে সড়কের আইন মেনে চলা ও সতর্কতার সাথে রাস্তা পারাপার হওয়ার কথাও বলেন তিনি।

ট্যাগ :



চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক : মোঃ আব্দুল আজিজ
ডিএমডি : মোঃ আরমান তারেক

বার্তা কক্ষ :

ঢাকা অফিস : ৬ষ্ঠ তলা,আইভরীকৃষ্ণচূড়া,৩/১ ই পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
চট্টগ্রাম অফিস : সায়মা আবুল স্কয়ার,বড়পুল,হালিশহর,চট্টগ্রাম।
ফোন : ০১৮১৭-৭৪৩৩৮৭
মেইল : channelkornofuli.org@gmail.com