চাঁদপুরে ঈদকে ঘিরে সক্রিয় নিম্ন মানের সেমাই উৎপাদনকারী বেকারিগুলো

প্রকাশ: ২০২১-০৪-২১ ০৪:৩৯:২৮ 33 Views

Spread the love

প্রান কৃষ্ণ দাসঃ চাঁদপুরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে নিম্নমানের সেমাই উৎপাদনকারী বেশ কয়েকটি বেকারি প্রতিষ্ঠান। এরা কোন রকমের প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এসব নিম্নমানের সেমাই তৈরী করছে। অথচ তাদের বিএসটিআইএর লাইসেন্স পর্যন্ত নেই। তাই এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী সচেতন মহলের।

মঙ্গলবার (২০শে এপ্রিল) সরজমিনে শহরের পুরান বাজার রয়েজ রোডের পাঁচতারা, আলম বেকারী, নিতাইগঞ্জ রোডে রূপালী সেমাই, ভুঁইয়ার ঘাটে প্রাইম, মৈশাদী হারুন বেকারীসহ বেশ কয়েকটি সেমাই কারখানা ঘুরলে দেখা যায়, এসব বেকারির শ্রমিকরা কোন ধরনের স্বাস্থ্যবিধি না মেনে দিন ও রাতে সেমাই তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শ্রমিকদের হাতে সুরক্ষা সামগ্রী গ্লাভস, মুখে মাস্ক ও পায়ে প্লাস্টিক গামবুট থাকার কথা থাকলেও তার চিত্র চোখে পড়েনি। আর এসব উৎপাদিত সেমাই চাঁদপুর জেলাসহ আশপাশের জেলাগুলোতেও বাজারজাত করা হচ্ছে।

অথছ কারখানাগুলোতে সেমাই উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত ময়দা, চিনি, ডালটা, ভোজ্য তেল, লবনসহ পণ্যগুলোর এক তৃৃৃতিআংশই নিম্নমানের। বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা সেমাইগুলোর অধিকাংশ নোংরা ও পোকা মাকড় পড়ে আছে।

এদিকে বাস্তবে সেমাই কারখানাগুলোতে অস্থাস্থ্যকর ও নোংড়া পরিবেশ থাকলে তা স্বীকার করছে না মালিক পক্ষ।

তবে পুরান বাজারের কারখানার শ্রমিক সেলিম, মাসুদ ও বিল্লালসহ আরও অনেকে বলেন, তারা সারাদিন কাজ করার পরে কারখানাগুলো পরিস্কার করে রাখেন। করোনা মহামারীর কারনে আগের চাইতে এখন সেমাইয়ের চাহিদা অনেকটা কমে এসেছে।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেল বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাইসহ যেই খাবারই উৎপাদন হয়। সেগুলো বর্জন করা এখন সময়ের দাবী। কারণ এসব কারখানায় পোড়া তেলসহ নিম্নমানের উৎপাদন সামগ্রী ব্যবহার করা হয়। যেগুলো খেলে গ্যাস্টিক, আলসার, আমাশয়, পাতলা পায়খানাসহ ক্যান্সারও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চাঁদপুরের মার্কেটিং কর্মকর্তা এনএম রেজাউল ইসলাম বলেন, মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে আমরা জেলার বিভিন্ন স্থানে নজরদারি রেখেছি। জেলা মার্কেটিং অফিস কাজ করছে। পুরন বাজারের সেমাই তৈরির কারখানায় প্রতি বছর অভিযান চালাই। কিন্তু কোনো নীয়মনীতির তোয়াক্কা করে না তারা। বিল্লাল খানের হাজী বেকারিকে এর আগেও জরিমানা করা হয়েছে। আমরা আবারও কারখানগুলোতে অভিযান চালাবো।

এ ব্যপারে চাঁদপুর জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুনতাসির মাহমুদ বলেন, আমরা খুব দ্রুতই নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ মোতাবেক বাজার মনিটরিং শুরু করবো এবং খাদ্য নিরাপদতা নিশ্চিতে এ ব্যপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিবো।

ভোক্তা অধিদপ্তর চাঁদপুরের সহকারী পরিচালক নুর হোসেন রুবেল বলেন, আমরা অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নিবো। অসাধু ও ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনকারীদের কোন ছাড় নেই।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অন্জনা খান মজলিশ বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরী হচ্ছে এমন তথ্য আমার কাছে নেই। তবে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষনিক মোবাইল কোর্ট টিম এসবের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ট্যাগ :



চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক : মোঃ আব্দুল আজিজ
ডিএমডি : মোঃ আরমান তারেক

বার্তা কক্ষ :

ঢাকা অফিস : ৩৭৩, দিলু রোড, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
চট্টগ্রাম অফিস : সায়মা আবুল স্কয়ার,বড়পুল,হালিশহর,চট্টগ্রাম।
ফোন : ০১৩০৬৭৩৪২৪০
মেইল : channelkornofuli.org@gmail.com