‘ইমেজ ফেরাতে’ বদলির হাওয়া সিএমপিতে

প্রকাশ: ২০২১-০২-১৮ ০৬:২৪:২১ 164 Views

Spread the love

কর্ণফুলী ডেস্ক: বাহিনীর ইমেজ বা ভাবমূর্তি ফেরাতে নগর পুলিশে বদলির হাওয়া লেগেছে। কনস্টেবল থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে এসএসআই, এসআই ও ইন্সপেক্টরসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যরা রয়েছেন বদলির তালিকায়। সদর দপ্তর থেকেই পর্যায়ক্রমে বদলির আদেশ আসা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে গত ১১ ফেব্রূয়ারি দুই হাবিলদারসহ শতাধিক কনস্টেবলকে বদলির আদেশ দেয়া হয়েছে। যারা গতকাল বুধবারের মধ্যে ছাড়পত্র দিতে বলা হয়েছে। এর পর অন্যান্য পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বদলির আদেশ আসার কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বাহিনীর প্রচলিত আভ্যন্তরীণ শৃংখলাবিধি অনুসরণ করেই এসব বদলি প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একে আঞ্চলিকতা কিংবা অন্য কোনও বিশেষ দৃষ্টিকোণ বা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখার সুযোগ নেই। জনস্বার্থ এবং বাহিনীর শৃংখলাবিধিই এক্ষেত্রে মূল নিয়ামক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কেবল সিএমপিতেই নয়, বিভিন্ন বিভাগে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নগর পুলিশে বর্তমানে বিভিন্ন পদমর্যাদার অন্তত দেড় হাজার পুলিশ সদস্য রয়েছেন, যাদের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলায়। স্বাভাবিকভাবেই বদলির ক্ষেত্রে তাদের সংখ্যা বেশি হতেই পারে। এরইমধ্যে সদর দপ্তরে বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যদের কয়েকটি খসড়া তালিকা স্বাক্ষরের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এর আগে গত ১১ ফেব্রূয়ারি পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-৩) স্বাক্ষরিত এক আদেশে সিএমপিতে কর্মরত দুইজন হাবিলদারসহ একশ’ সাতজন কনস্টেবলকে একযোগে বদলির আদেশ দেয়া হয়। তাতে বদলিকৃত কনস্টেবলদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য গতকাল বুধবারের মধ্যে ছাড়পত্র প্রদান করতে হবে উল্লেখ করে বলা হয়, অন্যথায় আজ বৃহস্পতিবার থেকে তাদেরকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হয়েছে মর্মে গণ্য হবেন।

নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি সদর) আমির জাফর জানান, খাগড়ছড়ি ও কক্সবাজারে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)- এর নতুন দুটি ইউনিট গঠন করা হচ্ছে। সেখানকার জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একশ’ ২০ জন পুলিশ কনস্টেবলের চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছে। সেই হিসেবে ইতোমধ্যে দুইজন হাবিলদারসহ একশ’ সাত জনের বদলির আদেশ দেয়া হয়েছে। আরও ২০ জন কনস্টেবল বদলি করা হবে। বাইরে থেকে ২০ জন কনস্টেবল সিএমপিতে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। সদর দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, এপিবিএনের ইউনিট দুটি যেহেতু খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারে। ভাষাগত দিক ও এলাকা চেনার ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের আশেপাশে বাড়ি এমন সদস্যদের সেখানে দিলে সুবিধাজনক হবে। এজন্য তাদেরকে সেখানে দিতে বলা হয়েছে। পাশপাশি ছুটি-ছাটাতেও তারা সহজেই বাড়ি-ঘরে আসা-যাওয়া করতে পারবেন। এটা আরও আগে থেকেই প্রক্রিয়াধীন ছিল।

এই বদলির সাথে সম্প্রতি আনোয়ারার পূর্ব বৈরাগে মধ্য রাতে ব্যবসায়ীকে তুলে এনে এক লাখ ৮০ টাকা আদায়ের ঘটনায় সিএমপির এসএএফ ও ডিবিতে কর্মরত ছয় কনস্টেবল গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই দাবি করে পুলিশ কর্মকর্তা আমির জাফর বলেন, বদলির আদেশ বা আনুষ্ঠানিকতা হয়তোবা কাকতালীয়ভাবে আনোয়ারার ঘটনার পর হয়েছে। কিন্তু এর প্রক্রিয়া তো আরও আগের। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তির কোনও সুযোগ নেই।

এর আগে গত ৭ ফেব্রূয়ারি আনোয়ারার পূর্ব বৈরাগের বাড়ি থেকে ব্যবসায়ীকে তুলে এনে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় কনস্টেবল আবদুল নবী, এসকান্দর হোসেন, মনিরুল ইসলাম, শাকিল খান, মোহাম্মদ মাসুদ এবং মোর্শেদ বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে মোহাম্মদ মাসুদের বাড়ি আনোয়ারার চাতরি আর আব্দুল নবীর বাড়ি শোলকাটায়। তারা দু’জন মিলেই মূলত কনস্টেবলদের মধ্যে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র গড়ে তোলে। বাকি চারজনও চট্টগ্রাম জেলার বাসিন্দা। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই এ কয়দিনে একশ’ পাঁচ জন কনস্টেবলের বদলি হয়েছে- যাদের অধিকাংশের বাড়ি চট্টগ্রামের আশপাশের উপজেলায়। এ নিয়ে বাহিনীর অভ্যন্তরে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে।

বদলির এই হাওয়াকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছেন বাহিনীতে কর্মরত চট্টগ্রাম জেলার বাসিন্দারা। বিভিন্ন পদমর্যাদার একাধিক পুলিশ সদস্য যাদের বাড়ি চট্টগ্রামে তারা বলেছেন, অভিযুক্ত ছয় পুলিশ সদস্যের অন্যায় কার্যকলাপে তারা নিজেরাও লজ্জিত এবং বিব্রতবোধ করছেন। তবে তাদেরকে রেহাইও দেয়া হয়নি। যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া অব্যাহত রয়েছে। তাদের অপকর্মের কয়েকজনের অপরাধের কারণে যদি অঞ্চলভিত্তিক তালিকা করে বদলি করা হয়ে থাকে তবে সেটা হবে দুঃখজনক।

উল্লেখ্য, বিগত ২০১৯ সালের শেষদিকে সিএমপি’র তৎকালীন উপকমিশনার (সদর) শ্যামল কুমার নাথ (বর্তমানে সিএমপি ট্রাফিক বিভাগরে অতিরিক্ত কমিশনার) সিএমপি’র বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরতদের বদলির জন্যে ‘চট্টগ্রামের বাসিন্দা’ এমন সদস্যদের তালিকা করতে চিঠি দিলে বিভিন্নমহলে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। অসন্তোষ ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির মুখে সিএমপি পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।

ট্যাগ :

সিএমপি


চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক : মোঃ আব্দুল আজিজ
ডিএমডি : মোঃ আরমান তারেক

বার্তা কক্ষ :

ঢাকা অফিস : ৩৭৩, দিলু রোড, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
চট্টগ্রাম অফিস : সায়মা আবুল স্কয়ার,বড়পুল,হালিশহর,চট্টগ্রাম।
ফোন : ০১৩০৬৭৩৪২৪০
মেইল : channelkornofuli.org@gmail.com