সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০২০-১০-২২ ০৬:৩১:৩৫ 37 Views

কর্ণফুলী ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কাজ করছে। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) গণভবন থেকে বেলা ১১টার দিকে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২০’ এর ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা বলেন ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে নাগরিকদের আরো সচেতন হতে হবে। যিনি রাস্তায় যাবেন তারও দায়িত্ব রয়েছে। এছাড়া গাড়ির গতি নির্ধারণে মহাসড়কগুলোতে গতি মাপার প্রযুক্তি স্থাপনের পাশাপাশি চালকদের ডোপ চেষ্ট করার নির্দেশ দেন তিনি। সড়ক দুর্ঘটনা হলে গাড়ি ভাংচুর ও চালকের গায়ে হাত দেয়া বন্ধ করতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত স্থান ছাড়া রাস্তা পারাপারে, কেউ দুর্ঘটনায় পরলে তার দায় সংশ্লিষ্ট পথচারীর।

এছাড়াও তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার স্থান ও কারণ চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে যোগাযোগের ব্যবস্থা করছে আওয়ামী লীগ সরকার।

এছাড়াও করিডোর উন্নয়নসহ ট্রাফিক সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন, মহাসড়কের পাশে বিশ্রামাগার নির্মাণ, চালকদের প্রশিক্ষণসহ নানামুখী উদ্যোগ ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঢাকা-আরিচা জাতীয় মহাসড়কের বিভিন্ন ঝুকিপূর্ণ বাঁক সরলীকরণ করা হয়েছে। সারা দেশের মহাসড়কে ১৪৪টি ব্ল্যাকস্পট চিহ্নিত করে ১২১টি নিরসন করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পাকিস্তনি হানাদার বাহিনীর দ্বারা দেশের অধিকাংশ সড়ক অবকাঠামোসহ সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে মাত্র সাড়ে ৩ বছরে বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলেন  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন তিনি।

ধ্বংসপ্রাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থাকে স্বল্প সময়ের মধ্যে সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ করে তিনি একটি শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থার সূচনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সড়ক-মহাসড়ক অবকাঠামো নির্মাণ ও বাস্তবায়ন করে সড়ক পরিবহনের ক্ষেত্রে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে বলেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকারের আমলে মহাসড়কের নেটওয়ার্ক ২১ হাজার ৩০২ দশমিক ৮ কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে। ৪৫৩.০৭ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক ৪ লেনে ও তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত করা হয়েছে। ১২০৯টি সেতু ও ৫৫৮১টি কালভার্ট নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ, ১৮টি ফ্লাইওভার/ওভারপাস ও ২৭টি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২০’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর বান্দরবানে স্বামী নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের কাছে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন। এর পর থেকে ইলিয়াস কাঞ্চন ‘নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’ নামে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। নিসচার আন্দোলনের ফল স্বরুপ ২০১৭ সালের ৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রীসভার বৈঠকে ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ওই বছর থেকেই বাংলাদেশে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়ে আসছে।



চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক : মোঃ আব্দুল আজিজ
ডিএমডি : মোঃ আরমান তারেক

বার্তা কক্ষ :

ঢাকা অফিস : ৬ষ্ঠ তলা,আইভরীকৃষ্ণচূড়া,৩/১ ই পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
চট্টগ্রাম অফিস : সায়মা আবুল স্কয়ার,বড়পুল,হালিশহর,চট্টগ্রাম।
ফোন : ০১৮১৭-৭৪৩৩৮৭
মেইল : channelkornofuli.org@gmail.com